বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
Homeবান্দরবানরুমারুমায় শান্তি-সম্প্রীতি-অগ্রযাত্রা নিশ্চিতকল্পে সেনাবাহিনীর অনন্য প্রয়াস

রুমায় শান্তি-সম্প্রীতি-অগ্রযাত্রা নিশ্চিতকল্পে সেনাবাহিনীর অনন্য প্রয়াস

ডেক্স রিপোর্ট :

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে রুমা জোনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষ, কৃতি শিক্ষার্থী, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্থিক ও শিক্ষা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

রুমা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার, এসবিপি, পিএসসি (অধিনায়ক, ৩৬ বীর)-এর পক্ষ থেকে সম্প্রতি এসব সহায়তা প্রদান করা হয়। সামাজিক, ধর্মীয় ও শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতার পাশাপাশি দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণেও এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রুমা জোন সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় উৎসাহিত করতে এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের বিশেষভাবে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে জিপিএ ৪.৭৩ পেয়ে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সৈকত পাড়ার মেধাবী শিক্ষার্থী রাব্বি বম-কে নগদ ১০ হাজার টাকা পুরস্কার প্রদান করা হয় এছাড়াও শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় রুমা বাজারের জাবালুল কুরআন মাদরাসার ১৩০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে পড়াশোনার সহায়ক হিসেবে ৩০০টি খাতা বিতরণ করা হয়।

এলাকারবধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য জোরদারে রুমা বাজারের শ্রী শ্রী হরি মন্দিরে আয়োজিত ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ২০ হাজার টাকা এবং রুমা বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ও সিরাত মাহফিল আয়োজনের জন্য আরও ২০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও, ভালো ফলাফল অর্জনকারী হিন্দু সম্প্রদায়ের ৪ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার স্বরূপ নগদ অর্থ প্রদান করেন। এর পাশাপাশি, মুয়ালপি পাড়ার একজন কৃতি ছাত্রকে নগদ ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেন।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের সুপেয় পানির সমস্যা সমাধানেও সহায়তার হাত বাড়িয়েছে রুমা জোন। বাজার পাড়া আর্মি ক্যাম্পের আওতাধীন লালঙাক পাড়ার বাসিন্দাদেরকে নিরাপদ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ২৩ হাজার ৫৭০ টাকা মূল্যের পানির সরঞ্জামাদি প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন পাড়ার সার্বিক উন্নয়নে আরও ৫০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।

রুমা জোনের এসব উদ্যোগে স্থানীয় বাসিন্দারা সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজন ও সমস্যায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। শিক্ষা, ধর্মীয় সম্প্রীতি, সুপেয় পানি ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে এ ধরনের সহায়তা স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার বলেন, “পার্বত্য অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ, শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখতে রুমা জোন আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

রুমা জোনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের পরিবেশ আরও সুদৃঢ় ও বেগবান করতে রুমা জোন তথা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা স্থানীয় জনগণের পাশে থাকবে।

সম্পর্কিত আর্টিকেল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য

error: