
জেলা প্রতিনিধি, বান্দরবান :
উপজেলা—থানচি, রুমা ও রোয়াংছড়িতে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষার্থী। তিন উপজেলা মিলিয়ে মোট ৫০৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছেন ১২৭ জন। সম্মিলিত পাসের হার ২৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
প্রাপ্ত ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, থানচি উপজেলায় চারটি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মোট ২০৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে পাস করেছেন ৫২ জন। পাসের হার ২৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। তবে এ উপজেলায় কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাননি।
রুমা উপজেলায় তিনটি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১২৭ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। পাস করেছেন ২৫ জন, পাসের হার ১৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ। তিন উপজেলার মধ্যে একমাত্র জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীটি রুমা উপজেলার।
অন্যদিকে, রোয়াংছড়ি উপজেলায় একটি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৭৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে পাস করেছেন ৫০ জন। পাসের হার ২৮ দশমিক ০৯ শতাংশ। এ উপজেলাতেও কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেননি।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, তিন উপজেলার মধ্যে রোয়াংছড়িতে পাসের হার সবচেয়ে বেশি (২৮.০৯%), আর রুমায় সবচেয়ে কম (১৯.৬৮%)। তবে তিন উপজেলা মিলিয়ে জিপিএ-৫ অর্জনের সংখ্যা মাত্র একজন হওয়ায় পাহাড়ি দুর্গম এলাকার মাধ্যমিক শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের ফলাফল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের মতে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষক সংকট, যাতায়াত সমস্যা, শিক্ষা উপকরণের সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘদিনের নানা অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হচ্ছে না। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ফলাফল আরও পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
