মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৮, ২০২৬
Homeবান্দরবানআলিকদমআলীকদমে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব: রোগীদের পাশে ম্রো ইয়ুথ অর্গানাইজেশন

আলীকদমে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব: রোগীদের পাশে ম্রো ইয়ুথ অর্গানাইজেশন

‎সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা, আলীকদম:

‎বান্দরবানের আলীকদম ও লামা উপজেলায় হাম-রুবেলা রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় স্থানীয় প্রশাসন,স্বাস্থ্য বিভাগ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ম্রো ইয়ুথ অর্গানাইজেশন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। আলীকদম উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা আক্রান্ত রোগীদের পাশে থেকে নিরলসভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

‎গত ২২ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমের আওতায় দুর্গম এলাকার রোগীদের চিকিৎসা, পর্যবেক্ষণ এবং সার্বিক সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।

‎আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হানিফের নেতৃত্বে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি টিকাদান কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য সহকারীদের সঙ্গে মাঠ পর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন ম্রো ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের সদস্যরা।

‎স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত আলীকদমে ৫৫ জন এবং লামায় ৫ জনসহ মোট ৬০ জন হাম আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা সেবার আওতায় এসেছেন। এর মধ্যে ৪৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ১৮ জন রোগী আলীকদম, লামা এবং কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

‎ম্রো ইয়ুথ অর্গানাইজেশন জানিয়েছে, তারা দুর্গম এলাকার রোগীদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ, হাসপাতালে আনা-নেওয়া, চিকিৎসা সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করে আসছে। জটিল রোগীদের দ্রুত রেফার করতেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

‎সংগঠনটির সভাপতি সেথং ম্রো বলেন, দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এখনো বড় চ্যালেঞ্জ, তবে কোনো রোগী যেন অবহেলায় না থাকে সে লক্ষ্যে তারা কাজ করছেন। মেনথাব ম্রো জানান, স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা ও সচেতনতা কার্যক্রম বিস্তৃত করা সম্ভব হচ্ছে। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেনতং ম্রো বলেন, প্রতিটি রোগীর খোঁজখবর রাখা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান দায়িত্ব।

‎নারী বিষয়ক সম্পাদক কারসিং ম্রো জানান, নারী ও শিশু রোগীদের নিরাপত্তা ও মানসিক সহায়তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, লামা হাসপাতালে বাংলাদেশ ম্রো স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের স্থানীয় প্রতিনিধিরা সমন্বয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

‎সংগঠনটির তথ্যমতে, ২২ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৯১ হাজার ৭০৮ টাকা ৮০ পয়সা অনুদান সংগ্রহ করা হয়েছে, যা রোগীদের চিকিৎসা, পরিবহন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচে ব্যয় করা হচ্ছে।

‎সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দুর্গম এলাকায় হাম রোগ মোকাবেলায় ম্রো ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের এই মানবিক উদ্যোগ একটি কার্যকর উদাহরণ হয়ে উঠেছে। প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সম্পর্কিত আর্টিকেল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য

error: