বুধবার, জুলাই ২৯, ২০২৬
Homeঅপরাধরুমায় ১৫ দিনে ৮ শিশুর মৃত্যু: টিকাদানে অবহেলার অভিযোগ, তদন্তের দাবি

রুমায় ১৫ দিনে ৮ শিশুর মৃত্যু: টিকাদানে অবহেলার অভিযোগ, তদন্তের দাবি

➤১৫ দিনে ৮ শিশুর মৃত্যু, আতঙ্কে দুর্গম লেতংসে খুমী পাড়া

➤হামে মৃত্যু’র আশঙ্কা, প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তের দাবি

➤৫–৬ বছর আগে টিকাদানে গাফিলতির অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে স্বাস্থ্য বিভাগ

➤বর্তমান স্বাস্থ্যকর্মীর দাবি—’আগের অবহেলার দায় এখন আমার কাঁধে

➤ইউএনওর আশ্বাস—চিকিৎসায় অর্থাভাবে কেউ যেন বঞ্চিত না হয়

ডেস্ক রিপোর্ট :

বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলার রুমা সদর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের লেতংসে খুমী পাড়ায় গত ১৫ দিনের মধ্যে-৮ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি,মৃত শিশুদের অধিকাংশের বয়স প্রায় ৫ থেকে ৬ বছর এবং তারা হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সচেতন মহল ও পাড়াবাসীর অভিযোগ,প্রায় ৫–৬ বছর আগে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দায়িত্বরত স্বাস্থ্য সহকারীর অবহেলার কারণে অনেক শিশু জন্মের পর নিয়মিত টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। তাদের ভাষ্য, যদি সে সময় নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী টিকাদান কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালিত হতো,তাহলে আজকের এই পরিস্থিতি হয়তো এড়ানো সম্ভব হতো।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মকর্তা জানান, প্রায় ৫–৬ বছর আগে বগালেক কেন্দ্রের আওতায় ওই এলাকায় আব্দুল মুশা নামে এক স্বাস্থ্য সহকারী দায়িত্ব পালন করতেন। তার দায়িত্ব পালন নিয়ে এলাকায় নানা অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বর্তমানে ওই এলাকার দায়িত্বে থাকা শোকজ প্রাপ্ত সহকারী স্বাস্থ্যকর্মী সুস্মিতা তালুকদার বলেন,“আমি ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে চাকরিতে যোগদান করেছি। যোগদানের পর থেকে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করছি। বর্তমানে ২–৩ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে এ ধরনের সমস্যা দেখা যায়নি। যেসব শিশু মারা যাচ্ছে,তাদের অধিকাংশের বয়স ৫–৬ বছর। শুরুতে আমাকে শুধু পলি মৌজার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল,বর্তমানে রুমা মৌজা ও পলি মৌজা—দুটি মৌজার মোট ৩৯টি পাড়ায় আমাকে কাজ করতে হচ্ছে। একজন নারী স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে সীমাবদ্ধতা থাকলেও আমি সব এলাকায় পৌঁছানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আমার চাকরির বয়সও মাত্র আড়াই বছরের মতো।


তিনি আরো বলেন,আমাকে শোকজ দিয়েছে ঠিকই,কিন্তু আমার কোন দোষ নাই। আমার আগে সহকারী স্বাস্থ্যকর্মী আব্দুল মুশা ছিলেন ৫বছর আগে,তাহার দুর্বলতা অবহেলার কারণে আজ আমাকে কষ্ট পেতে হইলো।

অন্যদিকে,স্বাস্থ্য সহকারী আব্দুল মুশা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি লেতংসে খুমী পাড়া ব্লকে মাত্র ১–২ বছর দায়িত্ব পালন করেছি এবং সেটিও প্রায় ১০ বছর আগে। বর্তমান ঘটনার সঙ্গে আমার দায়িত্বকালকে যুক্ত করা ঠিক হবে না।

রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল্লাহ হাসান বলেন, “৪–৫ বছর আগে কোন এলাকায় কে দায়িত্বে ছিলেন, সে বিষয়ে আমার কাছে তথ্য নেই। বর্তমানে হাম-সংক্রান্ত পরিস্থিতির কারণে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য সহকারী সুস্মিতা তালুকদারকে তথ্য গোপন রাখার কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “কাকে শোকজ করা হয়েছে,সে বিষয়ে আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে হামে আক্রান্ত কোনো রোগীর পরিবার যদি অর্থ বা যাতায়াতের অভাবে চিকিৎসা নিতে না পারে,তাহলে তারা আমাকে জানালে সরকারি সুযোগ-সুবিধার আওতায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।

এদিকে,স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, শিশু মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয় এবং টিকাদান কর্মসূচিতে কোনো ধরনের গাফিলতি হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দুর্গম এলাকায় নিয়মিত টিকাদান ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

সম্পর্কিত আর্টিকেল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য

error: