বুধবার, মে ২০, ২০২৬
Homeবান্দরবানরুমাশিক্ষা ও ভূমি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম পেলেই ব্যবস্থা: রুমার ইউএনও লিজা আক্তার বিথী

শিক্ষা ও ভূমি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম পেলেই ব্যবস্থা: রুমার ইউএনও লিজা আক্তার বিথী

ডেক্স রিপোর্ট :

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় ভূমি সেবাকে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব করতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ভূমি সেবা মেলা ও জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা।

আজ ১৯ মে সকালে উপজেলা হলরুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ভূমি উন্নয়ন কর অনলাইনের মাধ্যমে পরিশোধের সুযোগসহ বিভিন্ন সরকারি ভূমি সেবা জনগণের কাছে সহজভাবে তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিজা আক্তার বিথী। তিনি ভূমি সেবা ও নামজারি কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি,স্বজনপ্রীতি কিংবা পক্ষপাতিত্ব বরদাশত করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।

ইউএনও বলেন,“ভূমি সংক্রান্ত সেবায় জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। তাই হেডম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। আত্মীয়তা,পরিচয় বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রভাব বিস্তার করে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন,জনগণের আস্থা ও ন্যায়বিচার রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। ভূমি সেবা নিয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি স্পষ্টভাবে জানান।

ওয়ারিশ সনদে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ইউএনও জানান,হেডম্যানদের মাধ্যমে ওয়ারিশ সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারিভাবে কোনো নির্ধারিত ফি নেই। তবে ইউনিয়ন পরিষদের নির্ধারিত সরকারি ফি অনুযায়ী সেবা গ্রহণ করতে হবে।

এ সভায় উপস্থিত ছিলেন রুমা জোনের প্রতিনিধি ইফতিকার কেপটেন,উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরিদুল হক, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশিষ চিরান, জনস্বাস্থ্য উপ-প্রকৌশলী স্বপন চাকমা,পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাগর কুমার বিশ্বাস,উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মোঃ কাউছার আলী,উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রাসেল দে,পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমা, রুমা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অংসিংনু মারমা, গালেঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেনরত ম্রো, গনমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা।

ভূমি সেবা মেলা শেষে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শতভাগ শিক্ষার্থী উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার বিষয়েও কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন ইউএনও।

তিনি বলেন,রুমা উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার উদ্বেগজনকভাবে পিছিয়ে পড়ছে। এ ধরনের অবহেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

ইউএনও আরও সতর্ক করে বলেন,প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি,ঝরে পড়া রোধ এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৩৬ বীরের জোন প্রতিনিধি কেপ্টেন ইফতেখার বলেন, বাজারে অকটেন তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষকের অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলা উদ্বেগজনক বিষয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়,হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর থাকলেও তারা নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে পাঠদান করছেন না। তিনি আরও বলেন, একটি সমাজ ও এলাকার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা,দায়িত্ববোধ এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত প্রয়োজন।

সাংবাদিক উবাসিং মারমা উপজেলা হাসপাতালে চলমান দুর্নীতি,অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ ধরনের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন,”লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্পর্কিত আর্টিকেল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য

error: