
সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাঁ, আলীকদম:
পাহাড়ি অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও টেকসই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্যে আলীকদম সেনা জোনের উদ্যোগে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ৪নং কুরুকপাতা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত অসহায় জনগণের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি ) সকাল ১০টায় আলীকদম সেনা জোনের উদ্যোগে কুরুকপাতা ইউনিয়নের সিন্ধুমুখ পাড়া, ইন্দুমুখ পাড়া ও বড় আগলা পাড়া এই তিনটি সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি গ্রামে মোট ১শত পরিবারের মাঝে শীতের কম্বল বিতরণ করা হয়।
উক্ত মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আশিকুর রহমান আশিক, এসপিপি, পিএসসি। এ সময় আলীকদম সেনা জোনের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জোন কমান্ডার বলেন, “পাহাড়ি অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আলীকদম সেনা জোন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “পাহাড়ি এলাকায় স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড়ি সন্ত্রাসী বা সশস্ত্র গ্রুপের যেকোনো সন্দেহজনক তৎপরতা সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে সেনাবাহিনীকে সহায়তা করার জন্য আমি স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
এ সময় তিনি এলাকার অভিভাবকদের সন্তানদের নিয়মিত স্কুলে পাঠানোর আহ্বান জানান এবং যুব সমাজকে পড়াশোনার মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেন। তিনি বলেন, “শিক্ষাই পারে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সমাজে মর্যাদার সাথে প্রতিষ্ঠিত করতে।”
এছাড়া তিনি আলীকদমে অবস্থিত মূরং কমপ্লেক্স সম্পর্কে উল্লেখ করে বলেন, “বান্দরবান রিজিয়ন ও আলীকদম সেনা জোনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত মূরং কমপ্লেক্সে সুবিধাবঞ্চিত মূরং শিশুদের জন্য বিনামূল্যে আবাসিক থাকা-খাওয়া ও শিক্ষার সুব্যবস্থা রয়েছে। অভিভাবকরা নিশ্চিন্তে তাঁদের সন্তানদের সেখানে পাঠাতে পারেন।”
তিনি আরও জানান, আগামী ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে আলীকদম সেনা জোনের উদ্যোগে মূরং সম্প্রদায়ের যুবকদের জন্য বিনামূল্যে কম্পিউটার ও ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তারা স্বাবলম্বী হতে পারবে। পাশাপাশি যুব সমাজকে মাদক ও সকল প্রকার সন্ত্রাসী কার্যক্রম থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অতীতেও জনগণের পাশে ছিল, বর্তমানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাবে।
