সোমবার, জানুয়ারি ১২, ২০২৬
Homeখাগড়াছড়িরামগড়ে তীব্র এলপিজি সংকট, অর্থ দিয়েও মিলছে না গ্যাস

রামগড়ে তীব্র এলপিজি সংকট, অর্থ দিয়েও মিলছে না গ্যাস

সাইফুল ইসলাম, রামগড়:

সারাদেশে চলমান এলপিজি (রান্নার গ্যাস) সংকটের প্রভাব পড়েছে পার্বত্য খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায়। গ্যাসের তীব্র সংকটে ঘরে ঘরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। কোথাও সিলিন্ডার মিলছে না, আবার কোথাও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়েও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।

সরেজমিনে রামগড় বাজার, আবাসিক এলাকা, সোনাভপুল, বল্টুরাম পাড়া, মাস্টার পাড়া, তৈচালা, চৌধুরী পাড়া ও কালাডেবা এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, এলপিজি গ্যাসের অভাবে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে ইন্ডাকশন বা ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করছেন। এতে রান্নার সমস্যার সাময়িক সমাধান হলেও বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

খুচরা দোকানগুলোতে ঘুরেও কোথাও গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েকজন খুচরা ব্যবসায়ী জানান, ডিলারদের পক্ষ থেকে নিয়মিত সিলিন্ডার সরবরাহ না থাকায় দোকানগুলোতে সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে পৌর শহরের বাসাবাড়িতে রান্নার বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক চুলার ব্যবহার বাড়ছে।

এদিকে সাধারণ ভোক্তারা অভিযোগ করছেন, গ্যাস সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যবসায়ী সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছেন। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

এলপিজি খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন করে এলপিজি বহনকারী জাহাজ দেশে না আসা পর্যন্ত এই সংকট পুরোপুরি কাটবে না। চলতি মাসে একটি জাহাজ আসার কথা থাকলেও সেটি না এলে ফেব্রুয়ারি মাসজুড়েও সংকট অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এলপিজি সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতেও।

উপজেলার বিভিন্ন অটোগ্যাস স্টেশনে পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় এলপিজিচালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাস ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

স্টেশন মালিকরা জানান, চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় স্টেশন চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক যানবাহন বাধ্য হয়ে অকটেন ব্যবহার করছে।

অন্যদিকে পাইপলাইনের স্বল্পচাপের কারণে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় চালকরা পূর্ণ গ্যাস পাচ্ছেন না।

একজন অটোরিকশা চালক বলেন, “ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অর্ধেক গ্যাস পাই। দিনে কয়েকবার লাইনে দাঁড়াতে হয়, ফলে আয় অর্ধেকে নেমে গেছে।”

সম্পর্কিত আর্টিকেল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য

error: