
মো. ইসমাইলুল করিম,লামা:
পার্বত্য জেলার বান্দরবানের লামায় ফাইতং ইউনিয়ন ৫নং ওয়ার্ড খেদারবান-সুতাবাদী নয়াপাড়া’সহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পাহাড়ি গ্রামগুলোতে বন্যহাতির দল প্রায়ই হানা দিচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন সোমবার, মঙ্গলবার, বুধবার বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারী) গত ১২/১৩ দিন রাতে কলা গাছ,আলু, সিম, ফসলে সবজি ক্ষেত ও চলতি সবজি খেতে তাণ্ডব চালিয়েছে বন্যহাতির একটি পাল শুক্রবার (০২ জানুয়ারী) সকাল সাড়ে ১১টায় সরেজমিনে লামা ডলুছড়ি রেঞ্জের কর্মকর্তা এস এম হাবিবুল্লাহ সঙ্গী ফোর্স ও ইউপি সদস্য সহ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সঙ্গে নিয়ে থানা জিড়ি ভিত্তিতে পরিদর্শন করেন।
গ্রামবাসীরা জানান, তারা জানমাল রক্ষায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।অন্যদিকে, বন্যহাতি ও ফসল রক্ষায় তৎপরতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজলা বন বিভাগের কর্মকর্তারা।
স্থানীয় কৃষকরা বলেন, কয়েকটির বন্যহাতির পাল খাবারের সন্ধানে উঠতি কলাগাছ সবজি ক্ষেতে হানা দিচ্ছে। এ সময় হাতির দল কলাগাছ,আলু ক্ষেতের খেয়ে ও পা দিয়ে মাড়িয়ে নষ্ট করে দিচ্ছে। তাই চলতি সবজি ফসল রক্ষায় কৃষকরা রাতে মশাল জ্বালিয়ে, ঢাকঢোল বাজিয়ে, টিন পিটিয়ে ও হই-হুল্লোড় করে ক্ষেত পাহারা দিচ্ছেন।কলা বাগানের এক কৃষক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, দিনের বেলায় বন্যহাতির পাল গহীন অরণ্যে লুকিয়ে থাকে। আর সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেই খাদ্যের সন্ধানে বাড়িঘর ও ফসলের মাঠে তাণ্ডব চালায় আমার কলাগাছ,সবজি,ক্ষেত নষ্ট করে ১ লক্ষ টাকার ও বেশি ক্ষতি করেছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, প্রতিবছর বন্যহাতির পাল খাবারের খোঁজে লোকালয়ে এসে ফসল নষ্টের পাশাপাশি প্রাণহানি ঘটাচ্ছে। এই হাতিগুলো তাড়ানোর জন্য স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত নেয়া হয়নি। ফলে পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষ ও কৃষকরা হাতির ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটান। এর একটি স্থায়ী সমাধান হওয়া দরকার।লামা ডলুছড়ি রেঞ্জের কর্মকর্তা এস এম হাবিবুল্লাহ বলেন, বন্যহাতির পাল দিনে উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকার গভীর জঙ্গলে অবস্থান করে। আর সন্ধ্যা হলেই খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে নেমে আসে। আমরা বন্যহাতি ও ফসল রক্ষায় তৎপর রয়েছে আমাদের টিম। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নিয়ে পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বন বিভাগের নির্ধারিত ফরমে আবেদন করে সরকারিভাবে ফসলের ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন পাবে। তাই তিনি বন্যহাতিকে উত্ত্যক্ত করতে নিষেধ দেন তবে হাতির প্রধান খাবার হচ্ছে কলাগাছ।
