বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬
Homeবান্দরবানরুমায় আশ্রম পাড়া সিঁড়ি নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

রুমায় আশ্রম পাড়া সিঁড়ি নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

ডেক্স রিপোর্টঃ

বান্দরবানে রুমা উপজেলা অন্তর্গত রুমা সদর ইউনিয়নের আশ্রম পাড়া যাওয়ার সড়কে সিঁড়ি নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪-২০২৫ ও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বরাদ্দকৃত অর্থে নির্মিত এই প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে এবং কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের।

আজ ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,সরকারী সড়ক থেকে-১ হাজর ফুটের আশ্রম পাড়ায় যাওয়ার সিঁড়ি নির্মাণে নিম্নমানের টাইলস ব্যবহার করা হয়েছে। অনেক জায়গায় টাইলস ঠিকভাবে বসানো হয়নি,কোথাও কোথাও ফাঁকফোকর রয়েছে,আবার কিছু অংশে ইতোমধ্যে টাইলস উঠে যেতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে প্রয়োজনীয় মান নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি ছিল না বললেই চলে।

অভিযোগ উঠেছে,কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার মংহাইনু মারমা প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা হওয়ায় তার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে ইচ্ছেমতো কাজ সম্পন্ন করেছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী,কাজ শুরুর পর থেকেই অনিয়মের আশঙ্কা ছিল,কিন্তু রাজনৈতিক চাপের কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি।

এলাকাবাসী আরও জানান,প্রকল্পের বরাদ্দ অনুযায়ী যে মানের নির্মাণকাজ হওয়ার কথা ছিল, বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকি না থাকায় ঠিকাদার নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ সম্পন্ন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অগ্রবংশের নির্বাহী পরিচালক উঃ নাইন্দিয়া থেরঃ এক বিবৃতিতে বান্দরবান জেলা পরিষদের অর্থায়নে সম্পাদিত টাইলস নির্মাণকাজ নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, জনগণের কষ্টার্জিত অর্থে পরিচালিত এই প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

নির্মাণকাজে যে টাইলস ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলোর মান নির্ধারিত মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রকল্পের অনুমোদিত নকশা ও বাস্তবায়িত ডিজাইনের মধ্যে সুস্পষ্ট অসঙ্গতি রয়েছে। পরিকল্পিত ডিজাইনের যথাযথ অনুসরণ না করে ব্যাপক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে শুধু অর্থের অপচয়ই হয়নি, বরং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

আশ্রম পাড়াবাসীরা জোর দিয়ে বলেন,এ ধরনের অনিয়ম কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। তিনি অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধে কঠোর নজরদারি ও মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার শৈহ্লাপ্রু মারমা বলেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে জনস্বার্থ ও উন্নয়ন প্রকল্পের সুনাম রক্ষা করা হোক।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার মংহাইনু মারমার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে তার কোনো বক্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসী ও পাড়াবাসীরা বলেন এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে তারা দ্রুত পুনরায় মানসম্মতভাবে কাজ সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন,যাতে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারেন।

এ কাজের নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী লেলিন চাকমার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত নীরবতা ও এড়িয়ে যাওয়ার মনোভাব অত্যন্ত দুঃখজনক ও প্রশ্নবিদ্ধ। ফলে কাজের মান ও অনিয়ম সংক্রান্ত বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এখন দেখার বিষয়,অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়।

সম্পর্কিত আর্টিকেল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য

error: