মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬
Homeউন্নয়নবান্দরবানে জেলা পরিষদ সদস্য পদে রুমা থেকে মারমা,ত্রিপুরা ও খুমি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বের...

বান্দরবানে জেলা পরিষদ সদস্য পদে রুমা থেকে মারমা,ত্রিপুরা ও খুমি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বের জোরালো দাবি

ডেক্স রিপোর্টঃ

সাতটি উপজেলা ও দুটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত পার্বত্যাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা বান্দরবান জেলা। জেলা শহরেই অবস্থান করছেন সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান,পৌরসভার মেয়রসহ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। ফলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বেশিরভাগই জেলা শহরকেন্দ্রিক—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

বিশেষ করে রুমা উপজেলা উন্নয়নের দিক থেকে এখনও পিছিয়ে রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

বর্তমানে জেলা পরিষদের সদস্য পদে একজন প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। কিন্তু রুমা উপজেলার সচেতন নাগরিক ও সমাজসেবকদের বক্তব্য—একজন প্রতিনিধি দিয়ে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাস্তব চাহিদা যথাযথভাবে তুলে ধরা সম্ভব নয়। তারা স্পষ্টভাবে দাবি জানিয়েছেন, উপজেলা ভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে রুমা উপজেলা থেকে -৩ জন সদস্য নির্বাচীত সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ,অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় রুমা উপজেলা থেকে জেলা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হলেও তিনি ছিলেন বম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। কিন্তু মারমা, ত্রিপুরা ও খুমি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি উপেক্ষিত থেকেছে। এতে বহু ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগণ নিজেদের বঞ্চিত মনে করছেন।

তাদের মতে,যোগ্য ও সক্ষম ব্যক্তিদের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী থেকে এবং রুমা উপজেলা থেকে-৩ জন সুযোগ দিলে সমতা,অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন এবং সামাজিক ভারসাম্য নিশ্চিত হবে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সব জনগোষ্ঠীর ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব—এমনটাই মনে করেন সচেতন মহল।

রুমা উপজেলার সাধারণ জনগণের জোরালো দাবি, জেলা শহরকেন্দ্রিক প্রতিনিধিত্বের পরিবর্তে উপজেলা ভিত্তিক সদস্য নির্বাচন প্রক্রিয়া চালু করা হোক। এতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সমস্যা সরাসরি জেলা পরিষদে উপস্থাপিত হবে এবং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করা সহজ হবে। উন্নয়নের সুফল তখন সমানভাবে পৌঁছাবে পাহাড়ের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতেও।

এ বিষয়ে তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এবং ৩০০ নং বান্দরবান সংসদীয় আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্যের প্রতি দৃঢ়ভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাদের প্রত্যাশা—প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সমতাভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব, প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ এবং সকল সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা না গেলে পার্বত্যাঞ্চলের টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়। এখনই সময় বাস্তবতা স্বীকার করে ন্যায়সঙ্গত ও ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

সম্পর্কিত আর্টিকেল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য

error: