
মহিউদ্দিন।।বাঘাইছড়ি।।
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে নব অনুমোদনকৃত পৌর শ্রমিক দলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছে শ্রমিক দলের নেতারা। গত ২২ আগস্ট বাঘাইছড়িতে বিভিন্ন ফেইসবুক আইডিতে নিউজ পোর্টালে বাঘাইছড়ি পৌর শ্রমিক দলের কমিটি গঠনের নিউজ দেখা যায়, নিউজে উল্লেখ করা হয় জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের স্বাক্ষরে ৬১ সদস্য বিশিষ্ট বাঘাইছড়ি পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি গঠিত হয়।
এতে সভাপতি হিসেবে মোঃ ইউসুফ আলী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইয়াছিন ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ নবীর হোসেন এর নাম ও ছবি প্রকাশ পায়। উক্ত কমিটি’টি বিতর্কিত কমিটি আখ্যা দিয়ে গতকাল ২৪ আগস্ট বাঘাইছড়ি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন বাঘাইছড়ি পৌর শ্রমিক দলের পদপ্রত্যাশী মোঃ গোলাম মোস্তফা ও মোঃ মনির হোসেন।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আজ সোমবার ২৫ আগস্ট বাঘাইছড়ি প্রেস ক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে নব গঠিত পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি ইউসুফ আলী।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে লিখিত বক্তব্যে ইউসুফ আলী বলেন, সম্প্রতি বাঘাইছড়ি পৌর শ্রমিকদলের নবগঠিত কমিটিকে ঘিরে গত ২৪/০৮/২০২৫ইং তারিখে কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা সেসব বিষযয়ে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে চাই। প্রথমেই স্পষ্টভাবে জানাতে চাই বাঘাইছড়ি পৌর শ্রমিকদলের নবগঠিত ৬১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি জেলা শ্রমিক দলের গঠনতন্ত্র ও কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী অনুমোদিত হয়েছে। এই অনুমোদন বৈধ প্রক্রিয়ায় জেলা নেতৃত্বের পূর্ণাঙ্গ বিবেচনা এবং যাচাই-বাছাইয়ের পর দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ করা হয়েছে যে, এই কমিটি “বিতর্কিত বা অগ্রহণযোগ্য” বাস্তবে নতুন কমিটিতে বাঘাইছড়ির বিভিন্ন ওয়ার্ড ও পেশাজীবি শ্রেণির শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পূর্বে বহিস্কৃত কোন সদস্যকে ফিরিয়ে আনা হলেও তা কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটির লিখিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই হয়েছে। অর্থাৎ, কারো ব্যক্তিগত ইচ্ছার নয়, সাংগঠনিক নিয়ম মেনেই এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
কিছু ব্যক্তির দাবি করে যে, তারা জেলা শ্রমিক দলের নিকট কমিটির তালিকা জমা দিয়েছেন। কিন্তু জেলা কমিটির দায়িত্ব ও এখতিয়ার হলো যোগ্য, সক্রিয় ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব যাচাই করে সর্বসম্মতভাবে অনুমোদন প্রদান করা। সেই অধিকার জেলা নেতৃত্বের আছে এবং সেই অধিকার প্রয়োগ করেই নবগঠিত কমিটি অনুমোদিত হয়েছে।
আমরা দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি কিছু ব্যক্তি ব্যক্তিগত স্বার্থ ও পদ পদবির আশায় বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছেন, যা সংগঠনের ঐক্য বিনষ্ট করছে এবং দলের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করছে। শ্রমিকদল কখনোই বিভাজন চায় না, বরং ঐক্যবদ্ধভাবে বিএনপির সংগ্রামে ভূমিকা রাখতে চায়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আতাউর মাঝি, কাজী মোস্তফা, ইব্রাহিম মাঝি, মোস্তফা মাঝি ও মনির হোসেন।
বাস্তবতা হলো, এরা গত ১৫ বছর বিএনপির দুঃসময়ে দলের পাশে না থেকে বরং আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, ঠিকাদারি ও গাড়ি ব্যবসার মাধ্যমে সুবিধা ভোগ করেছেন। তাদের সাথে আরও কিছু ব্যক্তি রয়েছেন, যারা দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের আমলে সুবিধাভোগী ছিলেন এবং দলের জন্য কোনো ত্যাগ স্বীকার করেননি। বিশেষত, বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের কঠিন সময়ে গত ০৫/০৮/২০২৪ইং আগস্টের আগে পর্যন্ত এদের কাউকে কখনো কোনো সংগঠনের কার্যক্রমে দেখা যায়নি। অথচ আজ তারা নতুন অনুমোদিত কমিটিকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বাস্তবতা হলো বিএনপির দুঃসময়ে যারা নিষ্ক্রিয় থেকেছেন, তারা এখন হঠাৎ করেই পদ পদবির আশায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তাদের এ ধরনের পদক্ষেপ শুধু দলের ঐক্য নষ্ঠ করছে না, বরং আন্দোলন ও সংগঠনের গতিকে ব্যাহত করছে।
তিনি বলেন আমরা সুস্পষ্টভাবে জানাতে চাই, বাঘাইছড়ি পৌর শ্রমিকদলের নবগঠিত কমিটি জেলা শ্রমিকদলের অনুমোদিত এবং গঠনতন্ত্রসম্মত। এ কমিটিকে বিতর্কিত করার যে অপচেষ্টা চলছে তা নিঃসন্দেহে ব্যক্তিস্বার্থ ও সুযোগসন্ধানী রাজনীতির অংশ।
আমাদের এই কমিটিই হলো একমাত্র বৈধ, অনুমোদিত ও কার্যকরী কমিটি। অযথা বিভ্রান্তি ছড়ানো বন্ধ করে দলের ঐক্য ও আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে সবাইকে আহবান জানাই। কেন্দ্রীয় শ্রমিকদল ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সকল স্তরের নেতৃবৃন্দের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই তাদের সরাসরি নির্দেশনা ও অনুমোদন ছাড়া এই কমিটি গঠিত হয়নি বলে দাবী মোঃ ইউসুফের।
এসময় সাংবাদিকরা ইউসুফ আলীকে প্রশ্ন করে বলেন, গোলাম মোস্তফা সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন পৌর শ্রমিক দলের খসড়া কমিটি প্রস্তুত করে অনুমোদনের জন্য জেলা শ্রমিক দলকে সুপারিশ করে বাঘাইছড়ি পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দরা এই বিষয়ে ইউসুফ আলীর মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা বিগত সময়ে আওয়ামীলীগের সাথে ব্যবসা বাণিজ্যে জড়িত ছিলো তাদের কে কমিটিতে রাখতে সুপারিশ করছে কিন্তু জেলা শ্রমিকদল যাচাই বাছাই করে যারা ত্যাগী ও দুঃসমে দলের সাথে ছিলো তাদেরকে দিয়েই কমিটি দিছে।
আরেক প্রশ্নে ইউসুফ আলীদের কমিটির অনুমোদন কপি আছে কিনা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন অনুমোদন কপি সংরক্ষিত আছে।
শ্রমিক দলের কমিটি নিয়ে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন বিষয়টি কি দলীয় কোন্দলের কারন কিনা এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন যারা গতকাল সংবাদ সম্মেলন করেছেন এটা তাদের ব্যক্তিগত কোন্দল রয়েছে দলীয় কোন কোন্দল নেই।