বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬
Homeঅপরাধথানচি বলিপাড়া ইউনিয়নে ভিডাব্লিউবি উপকারভোগীদের অর্থ আত্মসাৎতে অভিযোগ

থানচি বলিপাড়া ইউনিয়নে ভিডাব্লিউবি উপকারভোগীদের অর্থ আত্মসাৎতে অভিযোগ

ডেক্স রিপোর্ট:

বান্দরবানের থানচি উপজেলার দু:স্থ নারী পরিবারের নীরব হতাশা ও মানবেতর জীবন যাপন করছে। উপজেলা ৪ ইউনিয়নে ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) ও ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় তালিকাভূক্ত উপকারভোগী দু:স্থ নারী পরিবারের সুরক্ষা সঞ্চয় আমানতের টাকা এক বছর অতিবাহিত হলে ও ফেরত না পাওয়া এবং পরিবহন খরচ নামে অতিরিক্ত ৫০ টাকা করে দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের যোগসাজসের (হস্তচালিত) ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে’ সঞ্চয়ের টাকা সংশ্লিষ্ঠদের পকেটে রাখার কারণে প্রায় ১৬৭৪ অতি দরিদ্র পরিবারের দু:স্থ নারী উপকারভোগী বর্তমানে চরম হতাশা, মানসিক চাপ ও মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সাল থেকে ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) ও ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় উপজেলা ৪ ইউনিয়নের মোট ১৬৭৪ পরিবারকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে কার্ডধারীদের মাসিক ৩০ কেজি করে পুষ্টি খাদ্য চাল বিনামূল্যে বিতরণ ও দু: স্থ পরিবারের সুরক্ষা সঞ্চয় আমানত হিসেবে নগদ ২০০ টাকা করে নেয়া হয়। সেটি ২০১৮ সালে ২০০ টাকা থেকে ২২০ টাকা উন্নীত করে। কর্মকর্তাদের তথ্যনুসারে রেমাক্রী ৪২৪, তিন্দু ৪৩০, থানচি ৪২০,বলিপাড়া ইউনিয়নের ৪০০ মোট ১ হাজার ৬শত ৭৪ পরিবার অতি দরিদ্রতা থেকে উক্তোরনে পথে নিয়ে আসার লক্ষ্যে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ভিডব্লিউবি–ভিজিডি কর্মসূচির সঞ্চয় তহবিল সরকারের অনুমোদিত ব্যাংক,যে কোন একটি ব্যাংকের উপজেলা কমিটি সভাপতি / সদস্য সচীব যৌথ স্বাক্ষরিত হিসাব সেন্টাল অ্যাকাউন্টে জমা করার এবং ইন্দোভিজল একক এনবিএফআই–এর নিরাপদ অ্যাকাউন্টে জমা রাখার নিতিমালা থাকলেও উপজেলার ৪ ইউনিয়নে এই নিয়ম মানা হয়নি। বরং মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আয়েশা বেগমের পরামর্শে সঞ্চয়ের টাকা স্থানীয়ভাবে হস্তচালিতভাবে ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মেয়াদ শেষে অন্যের থেকে ধারের টাকা সংগ্রহ করে ফেরত দেওয়ার ‘অনিয়মিত’ পদ্ধতি অনুসরণ করায় এখন উপকারভোগীরা তাদের আমানত ফেরত পাবেন কি না—তা নিয়ে গভীর শঙ্কায় রয়েছেন।

বলিপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াঅং মারমা বলেন, ২০১৬ সাল হতে এ কর্মসূচী আওতায় সুরক্ষা সঞ্চয় টাকা নগদ নিলে ও আমাকে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা পরামর্শে স্থানীয়ভাবে হস্তচালিতভাবে ব্যবহার করার। ২ বছর মেয়াদ শেষে আমি সম্পুর্ন নগদ টাকা সংগ্রহ করে এমরান হোসেনের হাতে হস্তান্তর করি । হঠাৎ এমরান হোসেন মারা যাওযা এ রহস্য জনক ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, ২০২৩- ২৪ চক্রে দুই বছর মেয়াদ শেষে ৩৫০ জনের প্রতি মাসের ২২০ টাকা হারে মোট ১৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা এমরান হোসেনের হাতে দিই। তাকে অঢেল বিশ্বাসে নগদ টাকা এর রিসিভ ডকুমেন্ট রাখি নাই। এমরান হোসেন গত ২০ সেপ্টেম্বর শনিবার বান্দরবান হাসপাতালের স্ট্রোক হয়ে হঠাৎ মারা যায়।

যোগাযোগের এমরান হোসেনের সহধর্মীনি রুমা আক্তার প্রতিবেদককে বলেন, স্বামী মারা যাওয়া শোক এখন ও বয়ে যাচ্ছে। ২২ নভেম্বর মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ের চার ইউপি চেয়ারম্যান সহ আমাকে ডেকে নিয়ে চার ইউপি চেয়ারম্যানরা দু:স্থ নারীদের সুরক্ষা সঞ্চয়ী আমানত বলিপাড়া ১৫ লাখ, থানচি ৫ লাখ, তিন্দু ১৪ লাখ রেমাক্রী ২৪ লাখ মোট ৫৮ লাখ টাকা পাওয়ানা রয়েছে। স্বামীকে মোট ৭০ লাখ টাকা দিয়েছে বলে দাবী করেন। স্বামীকে টাকা দেয়ার কোন ডকুমেন্ট আছে বললে তারা নোট বইয়ের স্বামী নকল স্বাক্ষর দেখিয়ে মোট ৮ লাখ টাকা দেখানো হয় । ঔ ৮ লাখ টাকা ফেরত দিলে আমার স্বামী পেনশন স্কীমের পাওয়ানা টাকার আবেদন করতে পারবেন। না দিলে কোন সময় পেনশন স্কীমের টাকার জন্য আবেদন ও গ্রহন করা হবে না বলে সাব জানিয়ে দিয়েছে। পেনশন স্কীমের অজুহাত দুর্বলতা কারনে আমার নিকট কৌশলের বিভিন্ন কাগজের স্বাক্ষর নিয়েছে।

সরেজমিনে গেলে বলিপাড়া বাসিন্দা দু:স্থ পরিবার নুমেউ মারমা,উমেসিং মারমা,মাচাইসিং মারমা ও হ্লায়ইনু মারমা বলেন, ২০২২ সালে ভিজিডি পাবে বলে আমাদের নিকট ৫০০ টাকা করে দিতে হয়েছে তখন আমাদেরকে তালিকা নাম অন্তর্ভূক্ত করেন। ২০২৩-২৪ চক্রে প্রতি মাসের ৩০ কেজি করে পুষ্টি খাদ্য চাউল গ্রহন করি এবং তা বিপরীতে ২৭০ টাকা সঞ্চয় জমা করি। ২০২৫ সালে জানুয়ারী মাসের আমাদের সঞ্চয় টাকা স্থানীয় ব্যাংক থেকে উক্তোলন করে সুদসহ ফেরত দেয়ার কথা কিন্তু ২০২৫ সালে ডিসেম্বর মাস হলো এখন ও আমরা ফেরত পাই নি। ফেরত পেলে হাঁস মুরগি ক্রয় করে পালন করবো এবং পরিবারকে স্বাবলম্ভী হওয়া চেস্টা করবো সেটি ব্যর্থ হয়েছে।

দু:স্থ পরিবার সাসংতি ত্রিপুরা, জেরিনা ত্রিপুরা
বলেন, চেয়ারম্যানরা এক সপ্তাহ বলতে বলতে এক বছর অতিবাহিত হয়েছে এভাবে ঘুরাইয়া ঘুরাইয়া সময় নেয়।

স্থানীয় সোনালী ও কৃষি ব্যাংকের ভিডব্লিউবি–ভিজিডি কর্মসূচি’র সঞ্চয় তহবিল সরকারের অনুমোদিত ব্যাংক, ব্যাংকের উপজেলা কমিটি সভাপতি / সদস্য সচীব যৌথ স্বাক্ষরীত হিসাব সেন্টাল অ্যাকাউন্টে বা ইন্দোভিজল একক এনবিএফআই–এর নিরাপদ অ্যাকাউন্ট নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা।

ডিজিটাল আউটসোসিং কর্মী চয়নয় মারমা বলেন, ২০২১- ২২ চক্রে ৪০০ জনের দুস্থ নারীদের আইডি কার্ডে মাধ্যমে ব্যাংক এশিয়া এর ইন্ডোভিজল হিসাব একাউন্ট ছিল। পরবর্তীতে লোভে চেয়ারম্যান জিয়াঅং মারমা বন্দ করে দিয়েছে।

উপকারভোগী মেবুমা এর স্বামী চাইশৈপ্রু কারবারী বলেন, আমাদের গ্রামে ১৫ জন রয়েছে ভিজিডি কার্ডধারী, সরকার আমাদের জন্য সঞ্চয়ের টাকা দেয়, কিন্তু দায়িত্বশীলরা সেই টাকা নিজেদের কাছে রাখে। এখন আমরা বাজার-খরচ চালাতেই হিমশিম খাচ্ছি। “এই টাকাটা আমাদের জরুরি সহায়তা। এখন বলছে পরে পাওয়া যাবে। আমরা কি খাবো, কীভাবে বাঁচবো—বুঝে উঠতে পারছি না।

বলিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াঅং মারমা আর ও বলেন, আমাদের চার ইউনিয়নের একই ভাবে ২৭০ টাকা নিই কিন্তু চাউল পরিবহন খরচ জন্য ৫০ টাকা আমাদের হাতে রেখে দিই। ঔ টাকা হতে আমরা একজন রিপোটারকে মাসের ১ হাজার টাকা ও ৩০ কেজি চাউল দিতে বাধ্য হয়। না দিলে তিনি নিউজ করবে বলে হুমকি দেই।

জানা গেছে, বলিপাড়া ইউনিয়নের জিয়াঅং মারমা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক ও রেমাক্রী ইউনিয়নের মুইশৈথুই মারমা রনি আওয়ামী লীগের রেমাক্রী ইউনিযনের সভাপতি দুইজনে ২০১৬ ও ২০২২ সালে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীক নিয়ে দুই নির্বাচনের নির্বাচিত হয়েছিল ।

থানচি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অংপ্রু ম্রো, ২০২২ সালে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের নির্বাচিত হয়েছিল এবং আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক পদ হিসেবে রয়েছে তিনি।

রেমাক্রী ইউনিয়নের সচীব উশৈ মারমা বলেন, ভিজিডি কর্মসূচীতে সকল উপকারভোগীদের তালিকা ডুকুমেন্ট চেয়ারম্যান পকেটে নিয়ে যায়, ভিজিডি কর্মসূচীতে ইউনিয়ন কমিটিতে সদস্য সচীব হিসেবে আমি আছি কিন্তু তালিকা প্রনয়ন, বিতরণ সঞ্চয় গ্রহন, ব্যাংকের জমা করানো, সব কাজ করেন চেয়ারম্যান একা। তিনি একাধারে ঠিকাদার, মৌজা হেডম্যান,আওয়ামী লীগের সভাপতি, ইউপি চেয়ারম্যান চার ক্ষমতা থাকায় গত ১০ বছর দাপতের সাথে ইউনিয়ন পরিষদকে নিজের একক পরিবার ভেবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আমাকে নাগ গলাতে নিষেধ করেছে। এবং চেয়ারম্যানের আদেশ ছাড়া সরকারী কর্মকর্তা সাংবাদিকদের কোন তথ্য দিতে নিষেধ করেছেন।

তিন্দু ইউনিয়নের ভাগ্য চন্দ্র ত্রিপুরা ২০২২ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল। নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ও দোষর হয়ে কাজ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। থানচি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অংপ্রু ম্রো বলেন, ২০২৩-২৪ সালে সকল উপকারভোগীদের সঞ্চয় টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা ক্যসাউ মারমা জানান,হত দরিদ্র দু:স্থ নারী পরিবারের কষ্টের সঞ্চয়ের টাকা লুন্ঠ করে কেউ পার পেয়ে গেলে ভবিষ্যতে আর কেউ সরকারের প্রকল্পে আস্থা রাখবে না।

তিন্দু ইউপি চেয়ারম্যান ভাগ্য চন্দ্র ত্রিপুরা ঘটনাসত্যতা স্বীকার বলেন আমরা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও পুরোনো অভিজ্ঞতা সম্পন্ন চেয়ারম্যানদের গুটি চালের স্বীকার হয়েছি। শ্রীগরই উদ্ধার করে সঞ্চয়ী টাকা ফেরত দেবো। রেমাক্রী ইউপি চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা রনি বলেন, আমি বান্দরবানের আছি থানচি আসিলে এ বিষয়ের সরাসরি বলবো। এ বিষয়ে নিউজ করোনা আপনাদের ও ভবিষ্যৎ রয়েছে বলে হুমকি দিয়ে মুঠোফোন কেটে দেন।

যোগাযোগ করা হলে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা (অ:দা:) আয়েশা আক্তার বলেন, কর্মজীবনের আমি রুমা উপজেলার নতুন থানচি উপজেলা অতিরিক্ত দায়িত্ব। দুই উপজেলা পরিচালনা করার হিমশিম খাচ্ছি। দু:স্থ নারী পরিবারের সঞ্চয় আমানত ২৩ সেপ্টেম্বর ফেরত দেয়ার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল কিন্তু এর আগেই সহকর্মী এমরান হোসেন মারা যাওয়া রহস্য জনকভাবে ফেরত দিতে বিলম্ভব হয়েছে। আমি ইউএনও মহোদয় চার চেয়ারম্যানদের সাথে আলোচনা ক্রমে ১লা জানুয়ারী মধ্যে ফেরত দেযার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ব্যাংকের সেন্টাল একাউন্ট ও এমরান হোসেনের সহধর্মীনি রুমা আক্তারের কথা তিনি এড়িয়ে যান।

যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মোহাম্মদ আবদুল্লাহ- আল-ফয়সাল বলেন, মহিলা বিষযক অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা প্রস্তুতি নিয়েছে। আগামি ১ জানুয়ারী ২০২৬ সালের দু:স্থ নারী পরিবারে সঞ্চয় আমানত ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। তখন আমি উপস্থিত থেকে বিতরণ করা হবে।

সম্পর্কিত আর্টিকেল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য

error: