

ডেক্স রিপোর্ট:
বান্দরবানের দুর্গম রুমা উপজেলা—যেখানে বছরের পর বছর ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মৌলিক সেবার ঘাটতি ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা—সেই অঞ্চলকে একটি সম্ভাবনাময় জনপদে রূপান্তরের সাহসী ও দূরদর্শী উদ্যোগ নিয়েছেন বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এমদাদুল হক শরীফ। তাঁর অল্প সময়ের দায়িত্বকালেই গৃহীত কার্যকর পদক্ষেপগুলো স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক আশাবাদ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি প্রচলিত প্রশাসনিক ধারা ছাড়িয়ে বাস্তবমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনায় মনোনিবেশ করেন। সততা, দৃঢ়তা ও উদ্ভাবনী নেতৃত্বের মাধ্যমে অল্প সময়েই তিনি স্থানীয়দের আস্থা অর্জনে সক্ষম হন।
শিক্ষায় সংস্কারের কার্যকর পদক্ষেপ:
রুমার শিক্ষাব্যবস্থার দীর্ঘদিনের দুর্বলতা চিহ্নিত করে তিনি গ্রহণ করেন একাধিক যুগান্তকারী উদ্যোগ। শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও বিশ্লেষণী দক্ষতা বাড়াতে রুমা সাঙ্গু সরকারি কলেজ, রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং রুমা উপজাতি আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ে ডিবেটিং ক্লাব গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি ক্লাবকে ২৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যা নেতৃত্ব ও যুক্তিভিত্তিক চিন্তাধারার বিকাশে সহায়ক হবে।
পাশাপাশি ক্রীড়া ক্ষেত্রে সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে গঠন করা হয়েছে স্পোর্টস ক্লাব। নিয়মিত অনুশীলন, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য প্রণোদনা ও সহায়তা:
বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি ও শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অনাথালয় ও হোস্টেলে সরাসরি পরিদর্শন করে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। অগ্রবংশ অনাথালয়, মারমা ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র, বম হোস্টেলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ সহায়তার আওতায় এসেছে।
এছাড়া শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও মোটিভেশনাল কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব প্রতিষ্ঠানে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
বাস্তবভিত্তিক নীতিগত প্রস্তাব দুর্গম অঞ্চলের বাস্তবতা বিবেচনায় প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির বয়সসীমা শিথিল করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছেন। বর্তমান নিয়মের কারণে অনেক শিশু বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পেরে ঝরে পড়ছে—এই সমস্যা সমাধানে বয়সসীমা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চার দফা সুপারিশ:
রুমার শিক্ষা খাতের দীর্ঘস্থায়ী সংকট মোকাবিলায় তিনি চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেছেন—
* আবাসিক বিদ্যালয় নির্মাণ ও আসন বৃদ্ধি
* কমিউনিটি-ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু
* শিক্ষকদের নিজ এলাকার নিকটবর্তী প্রতিষ্ঠানে পদায়ন
* শিক্ষকদের জন্য নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা
সচেতন অভিভাবকদের ভাষ্যমতে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে রুমার শিক্ষা ব্যবস্থায় টেকসই পরিবর্তন আসবে।
সমন্বিত উন্নয়নের স্বপ্ন,শুধু শিক্ষা নয়,স্বাস্থ্যসেবা ও পরিকল্পিত পর্যটন খাতেও একটি সমন্বিত উন্নয়ন মডেল গড়ে তোলার রূপরেখা দিয়েছেন এই প্রশাসনিক কর্মকর্তা। তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রুমা উপজেলা দেশের একটি অনুকরণীয় উন্নয়ন মডেলে পরিণত হতে পারে।
স্বল্প সময়ের দায়িত্ব পালনেই মো. এমদাদুল হক শরীফ প্রমাণ করেছেন—সৎ নেতৃত্ব,কার্যকর পরিকল্পনা ও বাস্তবমুখী উদ্যোগ থাকলে দুর্গমতাও উন্নয়নের পথে বাধা হতে পারে না। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, সরকারের সক্রিয় দৃষ্টি ও সহায়তা পেলে তাঁর প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হয়ে রুমা উপজেলাকে একটি টেকসই উন্নয়নের উদাহরণে রূপান্তর করবে।
রুমা উপজেলার সচেতন নাগরিক তাদের বক্তব্যে আমরা গভীর দুঃখ ও হতাশার সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমাদের বর্তমান ইউএনও মহোদয় এলাকার শিশু শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কিছু ইতিবাচক ও দূরদর্শী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর এ উদ্যোগগুলো আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত।
কিন্তু দুঃখজনকভাবে, এমন একটি সময়েই তাঁকে বদলি করা হয়েছে, যখন তাঁর কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়নের পথে ছিল। এ ধরনের একটি উদ্যোগের মাঝপথে পরিবর্তন আমাদের জন্য সত্যিই হতাশাজনক এবং দুর্ভাগ্যজনক।
প্রধান উপদেষ্টা: মোঃ জসিম উদ্দিন
সম্পাদক: হ্লাথোয়াইচিং মারমা (ভদন্ত নাইন্দিয়া থের)
নির্বাহী সম্পাদক: মংহাইথুই মার্মা
প্রধান কার্যালয়ঃ রুমা বাজার, মসজিদ গলি,রুমা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা।
অফিস হটলাইন নাম্বার: +8801606760388
ইমেইল : rumabarta23@gmail.com
নিউজ পোর্টালটি তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনে জন্য আবেদিত
rumabarta.com