

ডেক্স রিপোর্ট:
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান গণঅভ্যুত্থান, পরিবর্তনের দাবি ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের আলোচনার মধ্যেই বান্দরবানের রুমা উপজেলা হয়ে উঠেছে এক গভীর রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। প্রশ্ন উঠছে—দেশজুড়ে যখন ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনীতি ও নতুন নেতৃত্বের দাবি জোরালো হচ্ছে, তখন রুমা উপজেলায় কি আদৌ কোনো বাস্তব পরিবর্তন ঘটছে, নাকি পুরনো শক্তিই নতুন মোড়কে ফিরে আসছে?
সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একাধিক প্রভাবশালী নেতা-কর্মী বর্তমানে নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপি (ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি)-র ব্যানারে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন। অথচ জাতীয় রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ও এনসিপির অবস্থান ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে।
গত ২১ জানুয়ারি ঘোষিত রুমা উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি এই বিতর্ককে আরও ঘনীভূত করেছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে আওয়ামী লীগের সদস্য ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অংসিংনু মারমা-কে। একইভাবে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদে স্থান পেয়েছেন গালেঙ্গা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মেনরত ম্রো। এই তালিকা সামনে আসতেই স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র প্রশ্ন ও সন্দেহের জন্ম নেয়।
১৫ বছরের রাজনৈতিক শাসনামলের পর মানুষ যেখানে নতুন নেতৃত্ব, নতুন দর্শন ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রত্যাশা করছে, সেখানে একই মুখ ও একই রাজনৈতিক অতীত নিয়ে নতুন দলের আত্মপ্রকাশ জনমনে আস্থার সংকট তৈরি করছে।
স্থানীয়দের মতে, যারা অতীতে আওয়ামী লীগের ব্যানারে থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন, তারাই এখন এনসিপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে রাজনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন। রাজনৈতিক অবস্থান ও আদর্শের এই আকস্মিক রূপান্তর সাধারণ মানুষের কাছে রহস্যজনক এবং উদ্বেগজনক বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় সমাজসেবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের লোকজন দিয়েই যদি নতুন দল গঠন করা হয়, তাহলে নতুন রাজনীতির স্বপ্ন কোথায়? নাম বদলালেই রাজনীতি বদলায় না।”
তিনি আরও বলেন, নেতৃত্ব ও মানসিকতার পরিবর্তন ছাড়া রাজনৈতিক পুনর্গঠন কেবলই প্রতারণা, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের হতাশাই বাড়াবে। এ অবস্থায় স্থানীয় জনগণের প্রশ্নগুলো স্পষ্ট ও জোরালো হয়ে উঠেছে—
আওয়ামী লীগ থেকে এনসিপিতে এই দলবদল কার নির্দেশনায় ও কোন প্রক্রিয়ায় হচ্ছে?
এর পেছনে কি কোনো অদৃশ্য রাজনৈতিক সমঝোতা বা ক্ষমতার লেনদেন রয়েছে?
এনসিপি কি সত্যিই গণমানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন, নাকি পুরনো ক্ষমতাকাঠামোর নতুন রূপ?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলবদল বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন নয়। তবে গণঅভ্যুত্থান ও পরিবর্তনের দাবির পর একই নেতৃত্বের পুনরাবির্ভাব জনগণের মধ্যে গভীর অনাস্থা সৃষ্টি করছে। এতে করে “নতুন রাজনীতি” ধারণাটিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে।
রুমা উপজেলার সচেতন মহলের স্পষ্ট দাবি—রাজনীতিতে প্রকৃত পরিবর্তন আনতে হলে প্রয়োজন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং বিতর্কিত অতীত থেকে মুক্ত নতুন নেতৃত্ব। তা না হলে জনগণ আর কোনো দলের আশ্বাসে সহজে বিশ্বাস স্থাপন করবে না।
এখন দেখার বিষয়, এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃত্ব এসব গুরুতর প্রশ্নের কী ব্যাখ্যা দেয় এবং তারা আদৌ অতীতের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ভেঙে নতুন ধারার রাজনীতি উপহার দিতে সক্ষম হয় কি না—নাকি রুমা উপজেলাও পরিণত হবে পুরনো ক্ষমতার আরেকটি পুনরাবৃত্ত ইতিহাসে।
প্রধান উপদেষ্টা: মোঃ জসিম উদ্দিন
সম্পাদক: হ্লাথোয়াইচিং মারমা (ভদন্ত নাইন্দিয়া থের)
নির্বাহী সম্পাদক: মংহাইথুই মার্মা
প্রধান কার্যালয়ঃ রুমা বাজার, মসজিদ গলি,রুমা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা।
অফিস হটলাইন নাম্বার: +8801606760388
ইমেইল : rumabarta23@gmail.com
নিউজ পোর্টালটি তথ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনে জন্য আবেদিত
rumabarta.com